

জাকসু নির্বাচনে অবশেষে ভোট গণনা শুরু হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনেট হলে আজ রাত সোয়া দশটার দিকে ভোট গণনা শুরু হয়।
এর আগে আজ সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি আবাসিক হলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল পাঁচটায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। তবে তখনো ভোটের সারিতে থাকা শিক্ষার্থীরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পান।
ভোটগ্রহণ শেষে ২১ টি হল থেকে ব্যালট বাক্সগুলো সিনেট হলে নেওয়া হয়। এরপর ভোটগণনা শুরু হয় রাত সোয়া দশটার দিকে।
এদিকে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ছাত্রদল ছাড়াও আরও চারটি প্যানেলের প্রার্থীরা ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।

জাকসু নির্বাচন বর্জনের পর বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে ছাত্রদল। আজ বৃহস্পতিবার রাত সোয়া নয়টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এই মিছিল বের হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মিছিলটি ক্যাম্পাসের নতুন কলাভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে জাকসু নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনের সড়ক হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরের দিকে যায়।
এ সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা ‘বয়কট বয়কট, জাকসু বয়কট’, ‘প্রহসনের জাকসু, বয়কট বয়কট’ শ্লোগান দেন।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন শিক্ষার্থী প্রথম আলোকে বলেন, ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতারা মিছিলে অংশ নেন।
জাকসু নির্বাচনে নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে ভোট বর্জন ও পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে প্রগতিশীল শিক্ষার্থীদের চারটি প্যানেলের প্রার্থীরা।
এই চারটি প্যানেল হলো ‘সম্প্রীতির ঐক্য’, ‘সংশপ্তক পর্ষদ’, ‘স্বতন্ত্র অঙ্গীকার পরিষদ’ ও সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের আংশিক প্যানেল। বেশ কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী তাঁদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভোট বর্জনের কথা জানান তাঁরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সম্প্রীতির ঐক্য প্যানেলের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদপ্রার্থী শরণ এহসান।
লিখিত বক্তব্যে শরণ এহসান বলেন, গতকাল রাতে ব্যালট বাক্স নিয়ে হট্টগোল থেকে শুরু করে রাত দুইটাই পোলিং এজেন্টের ঘোষণা দেওয়া, তার ফলে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট ম্যানেজ করতে না পারা, পোলিং এজেন্টদের কাজ করতে না দেওয়া, নারী হলে পুরুষ প্রার্থী প্রবেশ, ভোটার লিস্টে ছবি না থাকা, আঙুলে কালির দাগ না দেওয়া, ভোটার হওয়ার পরও তালিকায় নাম না থাকা ইত্যাদি অনেক অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা আর গাফিলতির কারণে এই নির্বাচনকে ঘিরে অনেক সন্দেহ আর প্রশ্ন ওঠার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই দায় কেবল এবং কেবলমাত্র এই ব্যর্থ, অথর্ব এবং পক্ষপাতদুষ্ট নির্বাচন কমিশন আর প্রশাসনের।’
তিনি বলেন, ‘আমরা এই অনিয়মের নির্বাচনকে বয়কট করেছি এবং দ্রুত সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য প্রক্রিয়ায় নতুন করে তফসিল ঘোষণাসহ পুননির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।’
জাকসু নির্বাচনে ২১টি হল থেকে ব্যালট বাক্সগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে নেওয়া হবে। সেখানে ভোটগণনা শেষে ফল ঘোষণা করা হবে।
জাকসু নির্বাচন কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক একেএম রাশিদুল আলম আজ সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ টি আবাসিক হলের ভোট কেন্দ্রের ব্যালট বক্সগুলো সিনেট হলে আনা হচ্ছে। সিনেট হলেই ভোট গণনা শুরু হবে এবং সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকটি স্থানে এলইডি স্ক্রিনের মাধ্যমে সরাসরি দেখানো হবে। এখানেই ফল ঘোষণা করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১টি হলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। চলে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। তবে পাঁচটার পরেও ভোটের সারিতে অপেক্ষমান থাকা শিক্ষার্থীরা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন।
জাকসু নির্বাচনের ভোটগ্রহণের নির্ধারিত সময় শেষ হলেও চলছে ভোট গ্রহণ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোট দেওয়ার সারিতে অপেক্ষমাণ শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে পারবেন। শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ হল কেন্দ্রে বিকেল ৫ টা ৪০ মিনিটেও শিক্ষার্থীদের ভোটের সারিতে থাকতে দেখা যায়।
আজ সকাল ৯টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার নির্ধারিত সময় বিকেল ৫টা। তবে এ সময় ভোটের সারিতে থাকা সবাই ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
ভোট শেষ হওয়ার আধঘণ্টা আগে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরে আসার ঘোষণা দিয়েছেন তিনজন শিক্ষক। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে নির্বাচন থেকে সরে আসার কথা জানান তাঁরা।
এই তিন শিক্ষক হলেন অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, অধ্যাপক শামীমা সুলতানা এবং অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান। তাঁরা বিএনপিপন্থী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত।
নির্বাচনে ভোট দেওয়ার পর হাতে কালির দাগ না থাকা, অতিরিক্ত ব্যালট প্রিন্ট করাসহ নানা অভিযোগ তুলে নির্বাচনের দায়িত্ব থেকে সরে আসার ঘোষণা দেন তাঁরা।
আজ সকাল ৯টায় জাকসু নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। বিকেল পাঁচটায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। তবে পাঁচটার পরও ভোটের সারিতে থাকা শিক্ষার্থীরা ভোট দিতে পারবেন।